বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম কিডনী তৈরিতে বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর সাফল্য

এই প্রথম কৃত্রিম কিডনী তৈরিতে একজন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তিনি ডা. শুভ রায়। বাড়ী বাংলাদেশের চট্রগ্রামের ফটিকছড়ি জেলার রোসাংগিরি গ্রামে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন সহকর্মীকে নিয়ে কৃত্রিম কিডনী তৈরিতে সাফল্য লাভ করেন। উল্লেখ্য, তিনি তার সহকর্মীদের নিয়ে ১০ বছর আগে এ গবেষণা কর্ম শুরু করেছিলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ কৃতিত্ব সত্যিই এক কথায় অসাধারণ!

ভারতীয় প্রচার মাধ্যমে ভারতীয় বংশদ্ভূত বলে ভুল প্রচারণা
ডা. শুভ রায়কে ভারতীয় বলে প্রচার করায় তিনি নিজে বেশ বিব্রত বোধ করছেন। বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। একটি বড় পরিচয়, তাঁর বাবা ডা. অশোক নাথ রায় চট্টগ্রামের আশকারদিঘির উত্তর পাড়ের মাউন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ডা. শুভ রায় বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের ছেলে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গেছি। আমাকে কেন ভারতীয় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে_এই নিয়ে আমি বিব্রত’।

বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভূমিকা না রাখায় প্রশ্নবিদ্ধ
ডা. শুভ রায়কে নিয়ে ভারতীয় সহ বিদেশী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভারতীয় বংশদ্ভূত হিসেবে প্রচার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশী সরকার এ ব্যাপারে কোনো ভূমিকা রাখছে না। এতে করে সরকারের ভূমিকায় অনেকেই হতাশ হয়েছেন। অথচ এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার একটি শক্ত ভূমিকা রাখতে পারতো। এবং সরকারের এ ধরনের ভূমিকা গ্রহণ করাই যুক্তিসঙ্গত ছিল।

জানা গেছে, ‘টেকনোলজি রিভিউ’-এ কৃত্রিম কিডনি তৈরির প্রথম খবর প্রকাশিত হয়। একই দিনে ‘দি টাইমস অব ইন্ডিয়ায়’ তাঁর পরিচয় দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত তৈরি করেছেন প্রথম কৃত্রিম কিডনি।

- টেকনোলজি টুডে তে পূর্ব প্রকাশিত

শেখ মুজিব বললেন, যদি আমাকে মারতে চায় বুক পেতে দেব…ফাদার মারিনো রিগন

কর্মমুখরতায় উদ্ভাসিত যার প্রতিটি মুহূর্ত। যিনি শিক্ষকের শিক্ষক, অভিভাবকের অভিভাবক। বহুমুখী কাজে সফল ব্যক্তিত্ব। এক কথায় বলা যায়, বিপুল কর্মগুণের ভান্ডার সমৃদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি আমাদের বাঙালীর দরদি বন্ধু ফাদার মারিনো রিগন। ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের অদূরে ভিল্লাভের্লা গ্রামে জন্মেছিলেন তিনি। বাবা রিকার্ডো (রিচার্ড) একজন কৃষক ও মা ইতালিয়া মনিকা ছিলেন একজন শিক্ষিকা। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সকলের বড়। মায়ের কাছে তার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর ১৯৩১ সালে প্রথমে স্কুল জীবন শুরু হয়। ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত নিজ গ্রামের অদূরে একটি শিক্ষা নিকেতনে পড়ালেখা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মিশনারি সংস্থায় যোগদান করেন। এবং সংস্থা পরিচালিত বিভিন্ন বিদ্যা-প্রতিষ্ঠানে ধর্মতত্ত্বসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা অর্জন করেন। তিনি এ পর্যন্ত অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। কবি জসীম উদ্দিন একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮২, ভেনিসের লায়ন্স ক্লাব পুরস্কার ১৯৮৪, ইতালির রোকা ডি’ওরো গার্ডা পুরস্কার ১৯৯৪, ড. রবার্ট ডব্লিউ পিয়াসের ম্যান অব দ্যা ইয়ার ১৯৯৫, ইতালির অলিম্পিক একাডেমী পুরস্কার ১৯৯৯, ভেচেন্সা নাগরিক সম্মাননা ১৯৯৭, ইতারির মারিয়েলে ভেস্ত্রে পুরস্কার ২০০২, খ্রিস্টীয় যোগাযোগ কেন্দ্র সম্মাননা পদক ২০০৩ ও বাংলাদেশে নাগরিক সম্মাননা ২০০৯। এক সন্ধ্যায় মহম্মদপুর চার্চে তার সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়েছি। ফাদার রিগনের অনেক না বলা কথা বেঙ্গলি টাইমস এর সঙ্গে শেয়ার করেছেন। বেঙ্গলি টাইমস এর পক্ষে আমি তাকে অনেক প্রশ্ন করেছি। তারই কিছু অংশ তুলে ধরলাম।
* ছোটবেলার কোন ঘটনা বলবেন, যা এখনো মনে পড়ে?
- আমার ছোট বেলা কেটেছে একটি অনুন্নত গ্রামে। সেখানে তখনো তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। গ্রামে সামান্য বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিল। আমরা একান্নবর্তী পরিবার ছিলাম। আমাদের বড়িতে একটি কুকুর ছিল। আমরা যখন টেবিলে খাবার খেতাম তখন কুকুরটি টেবিলের নিচে থাকত। একদিন আমার ছোট ভাই টেবিলের নিচে ঢুকে ঘেউ…ঘেউ করতে লাগল। আবার নিজেই উঠে বলছে আমি কিন্তু ঘেউ..ঘেউ করি না। পরে বাবা এলে ভাই তাকে বলছে, জানো বাবা মা না খুব বোকা। আমি টেবিলের নিচে বসে ঘেউ..ঘেউ করেছি। মা ভেবেছে সত্যি কুকুর ছিল। ওর কথা শুনে আমরা সবাই হেসেছিলাম।
আর একদিনের কথা। আমরা ছোটবেলায় একটি ডোবার কাছে খেলতাম। সেটা ঠিক পুকুর নয়। একদিন স্কুল থেকে ফিরে ওখানে গিয়েছি খেলতে। গিয়ে দেখি কত গুলো ছোট হাঁস সেখানে খেলা করছে। ডোবার পাড়েই ছিল ছোট ছোট পাথর। সেই পাথর দিয়ে হাঁস গুলিকে মারতে আরম্ভ করলাম। কয়েকটা মেরেই ফেললাম। মা বিকালে স্কুল থেকে ফিরে শুনলেন সে কথা। হাঁসগুলো ছিল আমাদের বাড়ির পাশে এক বুড়ির। মা তার কাছে আমার হয়ে ক্ষমা চাইলেন। তিনি মাকে বললেন, ছিঃ ছিঃ একি করছেন। মারিনো এমন কাজ করতে পারে না।
* কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়েও মানবতার সেবায় নিজেকে শপে দিলেন কিভাবে?
- কৃষক পরিবারে জন্ম হলেও আমরা ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতি পরিমন্ডলে বড় হয়েছি। আমার বাবা মঞ্চ নাটক করতেন। আমার বাবার সাথে গিয়েছিলাম নাটক দেখতে। সেখানে মঞ্চায়িত হয়েছিল যিশুর জীবনী নিয়ে একটি নাটক। সেই নাটকে বাবা যীশুর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এ নাটকে যীশুর কর্মকান্ড দেখে আমি অভিভূত হয়ে যাই। আর তখন থেকেই মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই বড় হয়ে যীশুর মত ধর্ম যাজক হব।
* ধর্ম যাজক হওয়ার পর বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন কি ভাবে?
- আমরা সন্ন্যাসী। আমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিতে পারি না। কে কোথায় যাব, কোথায় থাকব, এ সবের সিদ্ধান্ত নেন আমাদের ধর্মীয় গুরুজনরা। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। এবং এ দেশে আসতে আমি বাধ্য হই।
* বাংলাদেশে এসে ইতালিয় কোন জিনিসগুলোর কথা আপনি বেশি মনে করেন?
- আমাদের দেশে দ্রাক্ষারস(ওয়াইন) ও রুটি খুব বিখ্যাত। ইতালিতে কোন অনুষ্ঠান হলে এটা থাকবেই। তাই প্রথমে বাংলাদেশে এসে এগুলো খুব মিস করেছি। এ ছাড়া ইতালিয়ান আইসক্রিম, পিৎজা তো আছেই।
* পুরহিত হওয়ার আগে আপনার জীবনে কি প্রেম এসেছিল?
- পুরহিত হওয়ার আগে আমার জীবনে এমন একটি মেয়ে পেলাম না যে আমাকে বলেছে, ‘তোর সঙ্গে প্রেম করতে চাই।’ এটা আমার ভাগ্যের দোষ বলা যায়। প্রেম যে একেবারে আসেনি তা বললে ভুল হবে। তবে প্রেম এসেছিল ৮০ বছর বয়সে। এটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। মিডিয়াতে সে কথা প্রকাশ করতে চাই না।
* বাংলাদেশে আসার পর বাঙালী মেয়েদের প্রেমে পড়েছেন?
- বাঙালী মেয়েরা অনেক ভাল। তাদের মধ্যে অনেক প্রেম আছে। অনেকেই আমাকে প্রেমের কথা বলেছে।
* বাংলাদেশে শিক্ষাবিস্তর করতে কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন?
- শিক্ষা বিস্তারে তেমন কোন প্রতিবন্ধকতার শিকার হইনি। বরং পেয়েছি সহযোগিতা।
* বাংলাদেশের কোন দিকগুলো আপনার ভাল লাগে, কোন দিকগুলো ভাল লাগে না।
- বাংলাদেশের মানুষ অনেক অতিথি পরায়ণ। আর এখানে অনেক শিল্প আছে। মানুষ গান গায়, নাচে এটা আমার খুব ভাল লাগে। তবে কোন মেয়ে যখন কথা বলে আমার মনে হয় অভিনয় করছে। সত্যি নয়। আরো ভাল লাগে বাঙ্গালীরা নাম ধরে ডাকে না। সম্পর্কের সাথে তাদের সম্পর্ক। তারা পরিচয় করায় এটা আমার বাবা, মা ভাই বোন…..। খারাপ লাগে এটাই যখন দেখি পুরুষ মানুষ অন্যায় করেও দোষ নিতে চায় না। এ বিষয়টা আমাকে খুব কষ্ট দেয়।
* বাংলাদেশে সামাজিক জীবনের কোন দিকগুলো আপনার মনে দাগ কেটেছে?
- বাংলাদেশের দরিদ্রতা আমাকে খুব বেশি পিড়া দেয়। যখন প্রথম এদেশে আসি তখন এখানে তেমন ভাল রাস্তা ঘাট ছিল না। চিকিৎসা ব্যবস্থাও ছিল অপ্রতুল। একবার আমি অসুস্থ হয়েছিলাম তখন মংলায় ভাল ডাক্তার ছিল না। চিকিৎসার জন্য খুলনা যেতে হয়েছিল। তখন এই দৈন্যতা আমাকে আরো বেশি পীড়া দিয়েছে।
* বাংলা সাহিত্যের প্রতি ঝুঁকলেন কিভাবে?
- বাংলাদেশে আসার কারণে আমাকে বাংলাভাষা শিখতে হয়েছে। ছোটবেলা থেকে সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক ছিল আমার। যেহেতু বাংলাভাষা জানি তাই কাজের ফাঁকে বাংলা বই পড়তাম। রবীন্দ্রনাথের পন্ডিতমশাই আমার প্রথম বাংলা বই পড়া। তখনো ভাল বাংলা বুঝতাম না। তবুও এ বইটি পড়ে বেশ চমৎকৃত হয়েছিলাম। বলা যায়, এই বইটি আমাকে বাংলা সাহিত্যের প্রতি অনুরাগের জন্ম দিয়েছে। তারপর একে একে রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ বই পড়ে ফেলি। যতই তার বই পড়ি ততই যেন তার প্রতি আমার অনুরাগ বেড়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের প্রতি এই অনুরাগের ফলে ১৯৬৪ সালে ইতালিয়ান ভাষায় অনুবাদ করি গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ। এবং এটিই প্রথম কোন বাংলা কাব্যগ্রন্থ যা ইতালিয় ভাষায় প্রথম অনুবাদ করা হয়। তাই বইটি ইতালিতে বেশ প্রশংসিত হয়। এর পর একে একে রবীন্দ্রনাথের প্রায় চল্লিশটি বই ইতালিয় ভাষায় অনুবাদ করা হয়। আমার অনূদিত রবীন্দ্রনাথের নৈবেদ্য গ্রন্থ স্প্যানিশ ভাষায় এবং চিত্রা গ্রন্থটি পর্তুগিজ ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।
* বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে আপনার নিজস্ব ধারণা কি?
- বাংলাদেশে এসে আমি যতটা দিয়েছি, তারচেয়ে বেশিই পেয়েছি। এই পাওয়ার মধ্যে একটি হল বাংলাসাহিত্য। এ সাহিত্যের গভীরে প্রবেশ করে মেধা ও মননে পুষ্ট হয়েছি। তবে সবচেয়ে বেশি তুষ্ট হয়েছি রবীন্দ্র সাহিত্যে। কারণ দুটো- একটা আত্নিক অন্যটি বাহ্যিক। রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য পড়ে আমার মনে হয়েছে তিনি যা কিছু লিখেছেন তা কোন না কোন ভাবে প্রেম সর্ম্পকিত। এ প্রেম কখনো মানবিক কখনো ঐশ্বরিক। যদি কেউ মনে করে সাধারণ নর-নারীর প্রেমের কথা রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন তবে তা-ই। আবার কেউ যদি মনে করে এটি কেবলই ঈশ্বরের বন্দনা স্তুতি তবে তা-ই। রবীন্দ্র রচনাতে আমি এতটাই মগ্ন যে এ যাবত ৪০ টি গ্রন্থ ইতালিয় ভাষায় অনুবাদ করেছি। এ ছাড়াও জসীমউদ্দিন, শরৎ চন্দ্র, লালনের গ্রন্থ অনুবাদ করেছি।
* অনুবাদ করতে কোন বিষয় গুলোর প্রতি নজর রাখতে হয়?
- প্রত্যেক ভাষার এক একটা নিজস্ব ধরন থাকে। আমি বাংলাভাষাকে ইতালীয় ভাষায় অনুবাদ করেছি। এখানে খেয়াল রাখতে হয়েছে ইতালীয়দের কল্পনা আর বাঙালীদের কল্পনা এক নয়। মানুষের কল্পনার সঙ্গে ভাষার একটা সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাষা ও সংস্কৃতি সর্ম্পকে ভাল দখল থাকতে হবে। যেমন একটি কবিতা অনুবাদ করতে কবিতার ভাব সঠিক ভাবে উপস্থাপন করতে শিল্পমান, কবিত্ব বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
*চিকিৎসা বিষয়ে আপনি অনেক অবদান রেখেছেন। এ বিষয়ে একটু বলবেন?
- সেন্ট পল্স হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন রেভা. ফাদার ফ্রান্সিস তোমাজেল্লী। কিন্তু হাসপাতালটি সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি বদলি হয়ে যান অন্যত্র। আমি যখন শেলাবুনিয়ায় আসি তখন এ হাসপাতালের দায়িত্ব নেই। আমি আসার পর এখানে নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটার সমৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়াও হাসপাতালের বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডাক্তারদের আবাসন ব্যবস্তাও উন্নত করা হয়েছে।
* আপনি বাস্তুহারাদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা করেছেন। এ সর্ম্পকে একটু বলবেন?
- সব অঞ্চলেই কিছু লোক থাকে যারা সহায় সম্বলহীন। একেবারে নিঃস্ব বাস্তুভিটে পর্যন্ত থাকে না। এ সব মানুষদের জন্য আবাসন প্রকল্পের আওতায় জায়গা কিনে পরিবার প্রতি ৫/১০ কাঠা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। যাদের এই জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাদের অনেককেই জমির মূল্য দিতে হয়নি। আবার অনেককে জায়গার সঙ্গে ঘরও তৈরি করে দিয়েছেন । বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তাদের জন্য বিশেষ আবাসন প্রকল্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে । এ সকল মহিলাদের জন্য আর.সি.সি. পিলার দিয়ে টিনের ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদের উপার্জনক্ষম করার জন্য সেলাইকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
* আপনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। এ সময় আপনার অভিজ্ঞতার কথা বলবেন?
- ১৯৭১ সালে আমি গোপালগঞ্জের বানিয়ারচরে ছিলাম। আমি দেখেছি এ সময় বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানী হানাদারদের অমানুষিক নির্যাতন। ৩ এপ্রিলের কথা। খুলনা থেকে লঞ্চযোগে প্রাণভয়ে শরণার্থীরা এদিকে আসছিল। কিন্তু এ লঞ্চে কোন পতাকা ছিলনা। এ কারণে ছাত্র-জনতা চিৎকার করে ভৎসর্না জানাচ্ছিল। তখন আমরা স্থানীয় যোগেশের দোকান থেকে একটি পতাকা কিনে লঞ্চে পাঠাই। পরের দিন আমাদের জাভেরিয়ান ফাদার মারিও ভেরনেসি যশোহরে দুজন পকাসেনার হাতে শহীদ হন। এ ভাবে অনেক দিন কেটে গেল। নানা সমস্যা, ভয়, অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে এল ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ। বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী আত্নসমপর্ণ করার মাধ্যমে বিজয় ঘোষিত হয়। ১৭ তারিখ সকালে মুক্তিবাহিনীর একটি লঞ্চ নদী পথে টেকের হাট তেতেক গোপালগঞ্জে যাচ্ছিল লঞ্চে পত্ পত্ করে উড়ছিল স্বাধীনদেশের পতাকা। আমাদের নদী ঘাটে বাধা লঞ্চের গুটানো পতাকা মেলে দিলাম মুক্ত আকাশে। আর লঞ্চটির নাম দিলাম মুক্তবাংলা। বিকালে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল আমাদের মাঠে মিলিত হল। তারা সারিবদ্ধ হয়ে কুচকাওয়াজ, ফাঁকা গুলি করে বিজয়ের আনন্দ প্রকাশ করল। মাঠে সে দিন শত শত লোক সমাবেত হল। তারা আমাকে কিছু বলতে বলল। আমি সেদিন কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার সেই লাইন আবৃত্তি করলাম ‘বল বীর, বল উন্নত মম শির।’ সে দিন থেকে সার্ববৌম রাষ্ট্রে বানিয়ারচর ধর্মপল্লীতে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করলাম।
* শুনেছি আপনি পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার সঙ্গে কাটানো কোন গুরুত্বপূর্ন মূহুর্তের কথা বলবেন?
- আমি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে প্রায়ই তার বাড়িতে যেতাম। তিনি ছিলেন অনেকটা খামখেয়ালি মানুষ। একদিন হঠাৎ তিনি আমাকে বললেন, ফাদার আপনি কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন? কামাল হোসেন তখন ফরেন মিনিস্টার ছিলেন। তার সঙ্গে দেখা করলাম। আরেক দিন জসিম উদ্দিন বললেন, চলেন শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করে আসি। আমিও রাজি হলাম। যেতে যেতে উনি বললেন পাঁচ মিনিটের বেশি সময় দেবেন না শেখ মুজিব। আমি বললাম এতেই হবে। আমরা গণভবনে গেলাম। শেখ মুজিব সবাইকে বিদায় দিয়ে আমাদের ভিতরে ডাকলেন। গিয়ে দেখি পুলিশ নেই, শুধু আমরা তিন জন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি এখানে আছেন কিন্তু কোন পুলিশ পাহারা নেই। যে কোন সময় বিপদ আসতে পারে। আপনাকে কে রক্ষা করবে? উত্তরে তিনি বললেন, আমি প্রস্তুত। যদি আমাকে মারতে চায় বুক পেতে দেব। আমি বাংলা স্বাধীন করেছি ব্যস্। আমার কোন আফসোস নাই, মরলে মরব। সেদিন আমরা প্রায় এক ঘন্টা গল্প করলাম। তার সঙ্গে ছবি তুললাম।
* মৃত্যুর পর আপনি কোথায় থাকতে চান?
-আমার হার্ট অপারেশন হয়েছে। চিকিৎসার জন্য আমাকে ইতালিতে নেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ছেড়ে যাবার সময় আমার আত্নীয়-স্বজন ও ডাক্তারকে বলেছিলাম, আমার কোন দুর্ঘটনা হলে আপনারা আমার লাশ বাংলাদেশে পাঠাবেন। বাংলাদেশের মাটিতেই আমার কবর হবে। তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে তবে আমি বাংলাদেশ ছেড়েছিলাম।

সূত্র-
বেঙ্গলি টাইমস…কানাডার বাংলা সাপ্তাহিক

ইতালীয় ডকুমেন্টধারী ৮০ ভাগ পরিবার হুমকির মুখে

ইতালির পেরমেচ্ছ দ্য সোজর্নধারী (অভিবাসীদের জন্য ইতালীয় ডকুমেন্ট) কেউ এক বছরের বেশি সময় নিজ দেশে অবস্থান করলে তাকে আর ইতালি ফিরতে দেয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি ঢাকার হজরত শাহজালাল রহঃ বিমানবন্দরে রোমগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের পরও বিমানে উঠতে দেয়া হয়নি। ইতালিতে বসবাসকারী এসব যাত্রীর আত্মীয়রা জানান, বিমানে ওঠার আগেই ঢাকার ইতালিয়ান দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, যারা এক বছরের বেশি সময় দেশে অবস্থান করেছেন তারা বিমানে উঠবেন না। কর্মকর্তারা এসব ব্যক্তিকে দূতাবাসে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন। পরে তারা দূতাবাসে গেলে জানানো হয়, ইতালিতে যেতে হলে নতুন করে নূলাওস্তা বা ভিসার অনুমোদনপত্র আনতে হবে।
ইতালিতে ২০০৭ সালে অভিবাসনবিষয়ক একটি আইন করা হয়। এ আইনে আছে ইতালীয় ডকুমেন্ট কার্তা দ্য সোজর্নধারী কোনো ব্যক্তি বিশেষ কারণ ছাড়া (প্রমাণসাপেক্ষে) ছয় মাস থেকে এক বছরের বেশি সময় নিজ দেশে অবস্থান করতে পারবে না। আইন অমান্যকারীদের ডকুমেন্ট বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।
এ আইনের বয়স প্রায় দুই বছর পার হলেও এত দিন কোথাও কার্যকর করা হয়েছে বলে শোনা যায়নি। কিন্তু সম্প্রতি তা কার্যকর করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে ইতালির অভিবাসনবিষয়ক অফিস উফিচো ইমিমগ্রাতি।
বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ঢেউ ইতালির শ্রমবাজারে লাগতে শুরু করে গত দুই বছর থেকে। গত বছর তা প্রকট আকার ধারণ করে। এ সময় বহু বিদেশী শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। এই বিদেশী শ্রমিকদের একটা বড় অংশ বাংলাদেশের। ইতালিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় তাদের অনেকে বউ-সন্তান দেশে পাঠিয়ে দেন। অনেকে সন্তানকে দেশে লেখাপড়া করানোর জন্যও পরিবার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রবাসী বাংলাদেশীর অবস্থা এই।
এ দিকে সরকার ওই আইন কার্যকর করায় বিপদে পড়েছে এই ৮০ শতাংশ পরিবার। তারা তড়িঘড়ি করে ছুটে আসতে শুরু করেছে ইতালিতে। তাদের বড় একটা অংশের বাংলাদেশে অবস্থানের সময় ইতোমধ্যে এক বছর পার হয়ে গেছে। অনেকের পার হওয়ার পথে। অর্থাৎ কয়েক মাস বাকি। এ অবস্থায় এখনো যেসব পরিবার বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তাদের সতর্ক হওয়া দরকার। নয়তো আইনি জালে জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম নয়।
পাশাপাশি এখন বাংলাদেশ সরকার ইতালি সরকারের সাথে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করতে পারে, যাতে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও বাংলাদেশীদের জন্য আইনটি শিথিল করা হয়। নয়তো এই ৮০ শতাংশ পরিবারের বড় একটা অংশের ইতালি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আর একবার আইনি জালে জড়িয়ে পড়লে পরিবারগুলোকে ইতালিতে আসতে নতুন করে সব কাগজপত্র তৈরি করে দেশ থেকে ভিসা নিয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে ইতালি সরকার যদি নতুন কোনো নিয়ম সৃষ্টি করে তখন কিছুই করার থাকবে না।

free counters

“Contratto a progetto” হোল্ডারা স্টুডেন্ট পারমিটকে ওয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন করতে পারবে।

একজন ইউ ভুক্ত নয় এমন বিদেশী ইতালীতে বৈধ ভাবে বসবাস করছে, সে ইচ্ছা করলে তার স্টাডি/প্রফেশনাল পারমিটকে োয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন করতে পারবে যদি তার “Contratto a progetto” (প্রোজেক্টে কাজ করার পারমিট)থাকে, এমন তথ্য জানিয়েছে ইতালীর শ্রম মন্ত্রনালয়ের ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট।
এ বিষয়ে গতমাসে অনেক জিজ্ঞসা পাোয়ার পর, শ্রম মন্ত্রনালয়ের ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটি বিশেষ নোট ইসু করার যাতে “Contratto a progetto” হোল্ডারা স্টুডেন্ট পারমিটকে োয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন করতে পারবে।
খবর – আমাদের ইতালি থেকে সংগ্রহীত

বাবরি মসজিদ-রামমন্দির

প্রাচিন বাবরি মসজিদবাবরি মসজিদ-রামমন্দির বিতর্কের ইতিহাস
জমিটি কার_ বাবরি মসজিদের না রামমন্দিরের, এই মূল প্রশ্ন ঘিরেই গত প্রায় ষাট বছরে পাঁচ-পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছে। সে পাঁচটি মামলা একত্র করেই গতকাল এ সম্পর্কে রায় ঘোষণা করলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি এস ইউ খান, বিচারপতি সুধীর অগ্রবাল ও ধর্মবীর শর্মাকে নিয়ে গঠিত লক্ষেষ্টৗ বিশেষ ফুল বেঞ্চ।
বাবরি মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল মোগল বাদশাহ বাবরের শাসনামলে ১৫২৮ সালে। সেই থেকে মুসলমানরা ওই মসজিদে নামাজ পড়ে এলেও হিন্দুরা এলাকাটিকে রামের জন্মস্থান এবং রামমন্দির ভেঙে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল বলে বিভিন্নভাবে দাবি জানাতে থাকে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ চত্বরে হিন্দু-মুসলমানে অশান্তি সেই ১৮৫৩ সালেই। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলমান সৈনিক-জনতার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ব্রিটিশকে তাদের ক্ষমতার স্থায়িত্ব নিয়ে শংকিত করে তোলে। এরপর থেকে তাদের ভাগ কর শাসন কর নীতিকে কার্যকর করতে গিয়ে তারা এই মন্দির-মসজিদকে ইস্যু বানিয়ে এক সম্প্রদায়কে আরেক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবহারে হাতিয়ার করে। সিপাহি বিদ্রোহের দু’বছর পর ১৮৫৯ সালে বেড়া দিয়ে আলাদা করা হলো হিন্দু ও মুসলমানদের প্রার্থনাস্থল। এরপর ১৮৮৫ সালে রামচতুরায় পূজাপাঠ আর মন্দির গড়তে চেয়ে মামলা করেন মোহান্ত রঘুবর দাস। আদালত তার আবেদনে সাড়া দেননি। এর এক বছর পরই তিনি অযোদ্ধার বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফের পূজা করার অনুমতি দেওয়ার আবেদন করলে একই অবস্থা হয়।
ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৯ সালে বিরোধটি ফের সামনে চলে আসে। সে বছর মসজিদের তালা ভেঙে রামমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে অবশ্য মসজিদে তালা ঝোলানো হলো। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় সরকার রামমূর্তি সরানোর নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সে নির্দেশ পালিত হয়নি তখন।
পূজার অধিকার ও রামমূর্তি রেখে দেওয়ার দাবিতে আদালতে যান গোপাল সিংহ বিশারদ। ফৈজাবাদ আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে ওই এলাকায় পূজা ও নামাজ দুই-ই বন্ধ হয়ে যায়। কারণ আদালতের রায়টি ছিল এই যে, যতদিন নামাজ বন্ধ থাকবে ততদিন সেখানে রামমূর্তি দর্শনেরও অনুমতি থাকবে না। এ কোর্টেই একই আর্জি নিয়ে আসেন একই সময়ে পরমহংস রামকৃষ্ণ দাস। একই সময়ে তালা খোলার জন্য উমেশচন্দ্র পাণ্ডের আবেদনও জমা পড়ে আদালতে। ১৯৫৯ সালে জমি চেয়ে আদালতে যায় নির্মোহি আখড়া। এর তিন বছর পর আদালতের কাছে পাল্টা আবেদন জানায় উত্তর প্রদেশ সুনি্ন ওয়াক্ফ বোর্ড। ১৯৬৪ সালে এ সংক্রান্ত সবক’টি মামলা একত্র করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা হয়।
১৯৮৪ সালে লালকৃষ্ণ আদবানির নেতৃত্বে শুরু হয়ে যায় অযোদ্ধার বাবরি মসজিদের স্থলে রামমন্দির নির্মাণের আন্দোলন। এদিকে ১৯৮৬ সালে ফৈজাবাদ জেলা আদালতের রায়ে খোলা হলো মসজিদের তালা। শুরু হলো রামলালা দর্শন। তখন থেকে ওই সাইটে উত্তেজনার পারদ আপডাউন করতে থাকে। অবশ্য সুনি্ন ওয়াক্ফ বোর্ড একই বছরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। তখন সব মামলা হাইকোর্টের লক্ষেষ্টৗ বেঞ্চে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়। ১৯৮৯ সালে বিতর্কিত স্থানে হলো রামমন্দিরের শিলান্যাস। একই বছরে মসজিদ চত্ব্বর দখলে নেওয়ার আবেদন জমা পড়ে। ১৯৯১ সালে উত্তর প্রদেশে প্রথম কল্যাণ সিংয়ের নেতৃত্বে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে রামমন্দির ইস্যু জোরালো হয়ে ওঠে। এ বছরেই কল্যাণ সিং সরকার বিতর্কিত এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করে। বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এবং বিতর্কিত এলাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায়। সুপ্রিম কোর্ট দায়িত্ব ন্যস্ত করে ফের হাইকোর্টের হাতে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ইতিহাস সবার জানা। ১৯৯৬ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষেষ্টৗ বেঞ্চে শুরু হলো চূড়ান্ত শুনানি। ২০০৩ সালে আদালতের নির্দেশে ভারতীয় পুরাতাত্তি্বক বিভাগ মসজিদের নিচে খননকাজ চালায় সেখানে কোনো মন্দিরের কাঠামো রয়েছে কি-না তা যাচাইয়ের জন্য। পুরাতাত্তি্বক বিভাগ সেখানে ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পায়। সর্বভারতীয় মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এই রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে সেটি ঈদগার দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ বলে দাবি করে। সেই থেকে সেটি মন্দিরের ভগ্নাংশ নাকি ঈদগার দেয়াল তা নিয়ে বিতর্ক চলে।

সূত্র : ইন্টারনেট

ইসলাম নিয়ে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলেন রোসেলিনি

বিশিষ্ট ইতালিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা রবার্তো রোসেলিনি ইসলাম নিয়ে একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। ১৯৭৭ সালে মৃত্যুর আগে সেই কাজ তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। এখন তার ছেলে রেনজো বাবার হাতে লেখা ৭০ পাতার নোট নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছেন যার শিরোনাম ‘ইসলাম : লেট’স স্টার্ট লার্নিং অ্যাবাউট দি মুসলিম ওয়ার্ল্ড’। খবর ভারতীয় ওয়েবসাইটের।

১৯৭০ এর দশকে বিশ্ব জুড়ে তেল সংকট যখন চরমে তখন রোসেলিনি লিখেছিলেন যে, আধুনিকতার গর্বে অন্ধ পশ্চিমের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কে একটা গভীর ফাটল দেখা দিয়েছে। এই বিভেদ আর রেখে ঢেকে রাখা যাচ্ছে না, এটা প্রকাশ্য হয়ে পরেছে।

রোমে গত সপ্তাহে বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রেনজো বলেন, ” সেসময়ে লেখা রোসেলিনির বক্তব্য এখন আরো বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে পরেছে।”

রোসেলিনি ইসলাম সম্পর্কে প্রথম আগ্রহ দেখান ইরানি লেখক ফেরেদুন হুবেয়দার সঙ্গে কাজ করার সময়। তাদের যৌথ শ্রমের ফসল হিসেবে তৈরি হয় ১৯৫৭ সালে নির্মিত ‘ইন্ডিয়া : মাতৃভূমি’ প্রামাণ্য চিত্রের চিত্রনাট্য। হুবেয়দা ১৯৭১ সাল থেকে ১০৭৯ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানান, ইসলাম সম্পর্কিত প্রামাণ্য চিত্রের জন্য রোসেলিনি গাড়িতে করে ইতালি থেকে ভারত ভ্রমণের কথা ভাবছিলেন।

২০০১ সালে প্যারিসের লুভ মিউজিয়ামে ইতালিয় চলচ্চিত্রকারদের এক রেট্রোস্পেকটিভের সময় হুবেয়দা বলেছিলেন, ” রোসেলিনি আমাকে বলেছিলেন, মুসলিম বিশ্বের যে দেশগুলো তিনি ঘুরে দেখবেন সেগুলো সম্পর্কে তাকে যেন আমি তথ্য যোগান দিই। তুরষ্ক, ইরান ও পাকিস্তানে ভ্রমণের ইচ্ছা ছিল তার। ভারতে সংখ্যালঘু হলেও বিপুল সংখ্যক মুসলমান থাকায় এ দেশেও ঘুরে যেতে চেয়েছিলেন তিনি।”

হুবেয়দার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা দুজন বছরের পর বছর এ ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যান। এই আলোচনা থেকেই তার প্রামাণ্য চিত্রের ভিত্তি রচিত হয়। ২০০৬ সালে হুবেয়দা মারা যান।

হুবেয়দার বলেছিলেন, “রোসেলিনি ভেবেছিলেন, পশ্চিমা জগৎ ও মুসলিম বিশ্বের যে বিভেদ দুনিয়াকে অশান্তিময় করে রেখেছে, তার ক্ষুদ্র চেষ্টার মাধ্যমে তার কিছুটা হলেও নিরসন হবে। ইতিহাসে আরব ও মুসলিম সংস্কৃতি তার সঠিক আসনটি লাভ করবে।”

তবে এ বিষয়ে তাদের চিন্তাভাবনায় কিছু পার্থক্যও ছিল। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে বুদ্ধিজীবীদের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে।

হুবেয়দা বলেছিলেন, “রোসেলিনি ইসলামি বিশ্বকে দেখেছেন মূলত পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কের প্রেক্ষিতে। আমি দেখি অন্য প্রেক্ষাপটে। মুসলিম বিশ্ব তার নিজের বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক যে ঐতিহ্য ছিল তাকে উপেক্ষা করতে শুরু করে একসময়, তখন পশ্চিমা দুনিয়া সেটাই সাদরে বরণ করে নিয়ে নিজেদের উন্নতি সাধন করে।”
হুবেয়দা আরো মনে করেন মুসলিম রাষ্ট্রের সরকারগুলো নিজেদের বুদ্ধিজীবীদের কদর না করে এবং পশ্চিমের নীতি অনুসরণ করে আপন অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করে ফেলে।

হুবেয়দার কথা উদ্ধৃত করে রেনজো বলেন, “রোসেলিনি নিওরিয়ালিজমের আদর্শে উদ্ধুদ্ধ ছিলেন। যা কিছু রহস্যময় তাকেই বাস্তবের জমিনে নিয়ে আসা, সবকিছু সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা এবং কোন ধারনা বা কোন কিছু সম্পর্কে সন্তুষ্ট না থাকা, এটাই ছিল তার স্টাইল।”

রোসেলিনির বইটি প্রকাশ করেছে ডনজেলি প্রকাশনা সংস্থা।

১৯০৬ সালের ৮ মে জন্মগ্রহণ করেন রোসেলিনি। মারা যান ১৯৭৭ সালের ৩ জুন। তার ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে ‘রোমা’, ‘পায়সা’, ‘লা’মুর’, ‘ইওরোপা ৫১’, ‘ভিভা ইটালিয়া’ ইত্যাদি।